অজু আছে কিনা সন্দেহ হলে কী করবেন?

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৭

নামাজ আদায়ের অন্যতম শর্ত অজু। অজু ছাড়া নামাজ আদায় করা যায় না। ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই অজু। তবে অনেক সময় অজু করার পর মনে সন্দেহ তৈরি হয়, অজু ভেঙে গেছে কি না। বিশেষ করে নামাজের মধ্যে এমন সন্দেহ দেখা দিলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এ অবস্থায় ইসলাম কী নির্দেশনা দিয়েছে, তা জানা জরুরি।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, শুধু সন্দেহ বা ধারণার কারণে অজু ভেঙে যায় না। অজু ভঙ্গের কোনো কারণ ঘটেছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগের অজু বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো, ‘নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।’

এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি নামাজের মধ্যে বায়ু বের হওয়ার সন্দেহ করলে তিনি নামাজ ছেড়ে দেবেন না, যতক্ষণ না শব্দ শোনেন কিংবা গন্ধ পান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৭)

অর্থাৎ অজু করার পর কারও মনে যদি শুধু এমন ধারণা হয় যে তার বায়ু বের হয়েছে কিংবা বের হতে পারে, তাহলে সেই সন্দেহের ভিত্তিতে অজু নষ্ট হয়েছে বলে গণ্য হবে না। বায়ু বের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে তিনি আগের অজুতেই নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তবে বায়ু বের হওয়ার বিষয়টি অন্য কোনোভাবেও নিশ্চিত হওয়া গেলে অজু ভেঙে যাবে। হাদিসে শব্দ শোনা বা গন্ধ পাওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে এসেছে।

ইসলামে অজুর ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনাও রয়েছে। অজু করার সময় নির্ধারিত অঙ্গগুলো ভালোভাবে ধৌত করতে হয়। কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে সে বিষয়ে মহানবী (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

অন্যদিকে কিছু ব্যক্তি এমন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে পারেন, যাদের ঘনঘন বায়ু বের হওয়ার কারণে অজু ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের জন্য ইসলামি শরিয়তে বিশেষ বিধান রয়েছে।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির এমন অবস্থা হলে যে একটি পূর্ণ নামাজের ওয়াক্তজুড়ে অজু করে ফরজ নামাজ আদায়ের মতো সময়ও তিনি পান না, তাহলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে মাযূর বা শরয়িভাবে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

মাযূর ব্যক্তির জন্য বিধান হলো, প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নতুন করে অজু করতে হবে। এরপর ওই ওয়াক্তে একই অজু দিয়ে ফরজ, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করা যাবে। এ সময় যে সমস্যার কারণে তিনি মাযূর হয়েছেন, সেই কারণে অজু ভাঙবে না। তবে অন্য কোনো কারণে অজু ভেঙে গেলে নতুন করে অজু করতে হবে।

পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হলে আবার নতুন অজু করতে হবে। তবে শুধু মাঝেমধ্যে বায়ু বের হওয়া কিংবা অজু ধরে রাখতে কষ্ট হওয়ার কারণে কাউকে মাযূর হিসেবে গণ্য করা যায় না। এ জন্য শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন।

তাই অজু ভেঙেছে কি না, এমন সন্দেহ দেখা দিলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর দীর্ঘদিন ধরে অজু ধরে রাখতে সমস্যা হলে নিজের অবস্থা বিস্তারিত জানিয়ে অভিজ্ঞ আলেম বা মুফতির কাছ থেকে শরিয়তসম্মত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 
ইত্তেফাক/এসএ