লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ভোট দিচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লুলার সামনে চতুর্থ মেয়াদে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের সুযোগ, অন্যদিকে অপরাধ দমন, কর ও সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং নতুন অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন চেয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও। তিনি ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় গৃহবন্দী রয়েছেন। বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফ্লাভিও।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে এগিয়ে থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছান ফ্লাভিও বলসোনারো, যার সেই জয়কে ‘অনেক বড় অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেননি; ফলে অতীতের সেই ধারা ভেঙে লুলা ইতিহাস গড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
ভোটের আগের দিন মিনাস জেরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তেতে সমাবেশ করেন ফ্লাভিও। ১৯৮০-এর দশক থেকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য এই অঙ্গরাজ্যে জয় অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লাভিও বলেন, এই নির্বাচন আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের জন্য ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা চূড়ান্ত করবে। রিও ডি জেনেইরোতে তাঁর সমর্থকেরা জানান, বছরের পর বছর বামপন্থি শাসনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনাই ফ্লাভিওর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি অপরাধ ও মাদকচক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন বলসোনারোপুত্র। একই সঙ্গে তিনি লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টির অতীতের দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আনছেন।
অন্যদিকে প্রথম দফায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটার ভোটদানে বিরত থাকায় এবার দ্বিতীয় দফায় লুলার সমর্থকেরা ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সৈকতে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে লুলা এই নির্বাচনকে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণ এমন কাউকেই বেছে নেবে যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য মেনে নেবে না। নির্বাচনে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে লুলা প্রশাসন ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লুলার দল এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবেও তুলে ধরছে। তাদের যুক্তি, সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় দণ্ডিত বলসোনারোর আদর্শ ব্রাজিলের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর জন্য হুমকি। আজ রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে লুলা অবস্থান করছেন বাণিজ্যিক রাজধানী সাও পাওলোতে এবং ফ্লাভিও অবস্থান করছেন রাজধানী ব্রাসিলিয়ায়।
