বক্স অফিসে ব্যর্থ টম ক্রুজের ‘ডিগার’, বড় লোকসানের শঙ্কা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের সিনেমা মানেই পর্দায় শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন, চোখধাঁধানো সব স্টান্ট আর বক্স অফিসে আয়ের রেকর্ড। তবে এবার সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে নতুন ঘরানায় গিয়ে বক্স অফিসে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তার নতুন সিনেমা ‘ডিগার’। খ্যাতিমান অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত এ সিনেমার নির্মাণ ও প্রচারণায় বিপুল অর্থ লগ্নি হলেও প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ হয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। বক্স অফিস বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা এই ভরাডুবির পেছনে মূলত পাঁচটি কারণকে দায়ী করছেন।

আন্তর্জাতিক বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি, আইএমডিবি ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি থেকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিপুল বাজেট ও অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা: প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার এবং প্রচারণায় খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মোট বাজেট দাঁড়ায় ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলার। প্রেক্ষাগৃহের টিকিট বিক্রি থেকে এই বিপুল খরচ তুলে মুনাফা করতে হলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার আয়ের প্রয়োজন ছিল। তবে মুক্তির পর সিনেমাটি সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও যেতে পারেনি।

হতাশাজনক উদ্বোধনী আয়: উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি মাত্র ৮০ লাখ ডলার আয় করতে সক্ষম হয়। টম ক্রুজের মতো এ-লিস্টার তারকার জন্য এমন দুর্বল ওপেনিং নজিরবিহীন। অ্যাকশনপ্রেমী দর্শক সিনেমা হলে না আসায় শুরুতেই হোঁচট খায় ছবিটি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরবর্তী সপ্তাহগুলোর মোট আয়ে।

মার্কেটিং ব্যর্থতা ও অস্পষ্ট ঘরানা: প্রচারণা কৌশলে সিনেমার মূল গল্প ও ঘরানা সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট করা যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রেলার দেখে দর্শক বিভ্রান্ত হন—এটি কোনো অ্যাকশন থ্রিলার, নাকি রাজনৈতিক ড্রামা। টম ক্রুজের প্রচলিত জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গে উপস্থাপনার অমিল দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে।

পরিচিত অ্যাকশন ট্র্যাক থেকে বিচ্যুতি: ‘মিশন: ইমপসিবল’ বা ‘টপ গান’-এর মতো মারকাটারি অ্যাকশনের বদলে ‘ডিগার’ মূলত একটি অদ্ভুত ও ডার্ক পলিটিক্যাল স্যাটায়ার (গাঢ় রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ছবি)। এতে তিনি ‘ডিগার রকওয়েল’ নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেখানে প্রস্থেটিক মেকআপের মাধ্যমে তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ব্যতিক্রমী অভিনয়ের প্রয়াস প্রশংসিত হলেও টম ক্রুজের কাছ থেকে নিখাদ বিনোদন প্রত্যাশী মূলধারার দর্শকদের ছবিটি আকর্ষণ করতে পারেনি।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নেতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’: মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাস্কোরে এর রেটিং নেমে আসে ‘সি প্লাস’-এ, যদিও আইএমডিবিতে রেটিং রয়েছে ৭.৫। বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শকের ইতিবাচক সুপারিশ বা ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ অত্যন্ত জরুরি হলেও ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। যদিও ওটিটি, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্বত্ব বিক্রি থেকে কিছু অর্থ ফেরত আসবে, তবুও প্রেক্ষাগৃহের হিসাবে এটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আইএ