সিনেমায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, স্পষ্ট যোগাযোগ ও সহশিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা—এমনটাই জানিয়েছেন দুইবারের অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা মাইকেল ডগলাস। তার মতে, এ ধরনের দৃশ্যের চিত্রায়ন অনেকটাই সুনির্দিষ্ট কোরিওগ্রাফির মতো, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে সম্মতির বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের ‘৯২এনওয়াই’-এ নিজের আসন্ন স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলুভা রাইড’-এর প্রচার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ৮২ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টের জনপ্রিয় উপস্থাপক জশ হোরোভিটজ।
‘বেসিক ইনস্টিংক্ট’, ‘ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন’ ও ‘ডিসক্লোজার’-এর মতো বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডগলাসের। তবে নব্বইয়ের দশকে তার আলোচিত ছবিগুলোর শুটিংয়ের সময়ে বর্তমানের মতো সেটে ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য সমন্বয়কের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না। সমন্বয়ক ছাড়া কীভাবে স্পর্শকাতর দৃশ্যগুলো নিখুঁতভাবে ধারণ করা হতো—এমন প্রশ্নের জবাবে ডগলাস জানান, পুরো বিষয়টি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করত।
ডগলাস বলেন, সিনেমায় বহু অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে এবং এগুলো ফুটিয়ে তোলা মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে এ ধরনের দৃশ্যের সফল চিত্রায়নে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো আস্থা ও বিশ্বাস।
বিষয়টিকে যৌথ নাচের মহড়ার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, আপনাকে ধীরে ধীরে এগোতে হবে, আগে কথা বলে নিতে হবে এবং কোন আচরণে সহশিল্পীর পূর্ণ সম্মতি রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে হবে।
মারামারির দৃশ্য কোরিওগ্রাফির সঙ্গে তুলনা টেনে অভিনেতা আরও জানান, দৃশ্যধারণের আগে সহশিল্পীকে কীভাবে স্পর্শ করা হবে তা আগেই আলোচনা করে নেওয়া হতো, যাতে ক্যামেরার সামনে কোনো অস্বস্তি তৈরি না হয়। বিশেষ করে অতীতে যখন শুটিং সেটে প্রায় সবাই পুরুষ কলাকুশলী থাকতেন, তখন নারী সহশিল্পীরা যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তাহীনতা বা অস্বস্তি বোধ না করেন, সেদিকে তিনি সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতেন।
স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলুভা রাইড’-এ নিজের জীবনের অনেক অজানা ও অন্ধকার অধ্যায় খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন মাইকেল ডগলাস। এতে তার অতীতের প্রেমের সম্পর্ক, মাদকের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই এবং হলিউড আইকন কার্ক ডগলাসের পুত্র হিসেবে বেড়ে ওঠার মানসিক চাপের বয়ান রয়েছে। এমন স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, জীবনের পূর্ণাঙ্গ সত্যটা যেন তার নাতি-নাতনিরা জানতে পারে, সেজন্যই কোনো কিছু আড়াল করেননি।
এ ছাড়া নিজের চেয়ে ২৫ বছরের ছোট স্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাথরিন জেটা-জোনসের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন নিয়েও কথা বলেন তিনি। ডগলাস জানান, স্মৃতিকথায় তুলে ধরা অনেক কথাই ক্যাথরিন বই প্রকাশের আগে বিস্তারিত জানতেন না, কারণ সেসব ঘটনা ঘটেছিল ক্যাথরিনের সঙ্গে পরিচয়ের বহু বছর আগেই। নিজের জীবনের দুর্বলতাগুলো জনসমক্ষে আনতে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পাঠকদের ইতিবাচক সাড়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
