ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণে বিলম্বের পর রোববার (২৫ অক্টোবর) শিশুটির মা বাদী হয়ে কসবা থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. ইয়াসিন মিয়া উপজেলার ৩ নম্বর বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ি গ্রামের মৃত মাখু মিয়ার ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকালে রান্নার জন্য তেল কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায় শিশুটি। সেখান থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া তাকে নিজ কাঠের দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখানো হয়। তবে বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মাকে বিস্তারিত জানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন অভিযুক্তের স্বজন ও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। অভিযুক্তের ভাতিজা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির পদে থাকায় তার রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। মীমাংসা না হওয়ায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের কাঠের দোকানে ভাঙচুর চালান।
বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্তের ভাতিজা জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তারা বসেছিলেন এবং শিশুটির বক্তব্য শোনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার সঠিক বিচার চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রবিবার সকালে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
