প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসে রঙিন রামুর আকাশ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে উৎসবের জনপদে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লি। রঙিন ফানুসের আলো, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আমেজে বর্ণিল হয়ে ওঠে রামুর আকাশ। একের পর এক ফানুস উড়ানোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এ উৎসব ঘিরে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার মাঠ, মৈত্রী বিহারসংলগ্ন ছারাভিটা মাঠ ও হাজারীকুল এলাকায় নানা রঙের ফানুস ওড়ানো হয়। এ সময় উৎসবে অংশ নিতে এসব এলাকায় অসংখ্য নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।

ফানুসের আলোয় সাজানো পরিবেশ উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আকাশে রঙিন ফানুসের উড়াল আর চারপাশের আলোকসজ্জায় তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রামুর বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র নতুন করে ফুটে ওঠে।

বড়ুয়াপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মহুরি এবং রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে রামুর এ উৎসব স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে রামুর বৌদ্ধবিহারগুলোতে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের মতে, বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধবিহারগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও নানা আয়োজন করা হয়। ফানুসের আলোয় আলোকিত রামুর প্রবারণা পূর্ণিমা তাই কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

ইত্তেফাক/এএইচপি