নিখোঁজের ৫ দিন পর খালে মরদেহ, পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪

পটুয়াখালীর বাউফলে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন আলম গাজী (৫৭)। এরই মধ্যে পৌর শহরের বাংলাবাজার মসজিদের পাশের একটি খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পোশাক দেখে মরদেহটি আলম গাজীর হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে এখনো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ২১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাউফল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম গাজী। এর দুই দিন পর, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর), খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই মরদেহটির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একদিকে আলম গাজীর সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন তার পরিবার, অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

আলম গাজীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার বাবার পোশাকের মতো মনে হয়েছে। এ কারণে মরদেহটি তার বাবার হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। তবে শুধু পোশাক দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

সাইফুল আরও জানান, মরদেহটি তার বাবার হতে পারে—এমন সন্দেহ থেকে তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ তাদের জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আলম গাজীর প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগমের আশঙ্কা, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, প্রায় ৩৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে আলম গাজী স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন না; মাঝেমধ্যে তাদের কাছে আসতেন। তিনি মূলত ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতেন।

পিয়ারা বেগমের অভিযোগ, ছোট স্ত্রীর সঙ্গে আলম গাজীর প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো এবং তাকে মারধর করা হতো। আলম নিখোঁজ হওয়ার পর ফারজানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে তার সন্দেহ আরও বেড়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম গাজীর কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলম গাজী তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগমের সঙ্গে তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা বেগম গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া গ্রামে থাকেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হলেও গত আট থেকে দশ বছর ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে আলম গাজী বাউফলের দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের কোনো সন্তান নেই।

ফারজানা বেগম জানান, গত বুধবার তার স্বামী পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর আর ফিরে আসেননি। খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের হাতের আঙুলের সঙ্গে তার স্বামীর আঙুলের মিল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার স্বামীর নয় বলে জানান ফারজানা।

ফলে পোশাক নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ এবং মরদেহের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে দাবির মধ্যে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, আলম গাজীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে। খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির মাথার চুলসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহের দাবিদারদের নমুনার সঙ্গে সংরক্ষিত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর কি না।

এখন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন আলম গাজীর পরিবারের সদস্যরা। সেই ফলাফলই দূর করবে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটি নিয়ে তাদের সব সংশয়।

ইত্তেফাক/এমএএম