প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রেখেছেন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩৪

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিক অবদান রাখার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

এ সময় ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে তারো আসো বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের বিষয়েও তিনি প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎটি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাপানের পক্ষে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং জাপানের সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।

ইত্তেফাক/এমএএম