ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফলে ‘কিছু যায় আসে না’: ইসমাইল বাঘাই

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩২

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক আগ্রাসন  শুরুর পর এটিই প্রথমবারের মতো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। বিশ্লেষকরা এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি থাকবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে শাসকগোষ্ঠী আমাদের অঞ্চলে সহিংসতা আর গণহত্যা ছাড়া আর কিছুই আনেনি, তাদের নেতৃত্বে কে আসল বা কে গেল তাতে আমাদের কিছুই আসে যায় না।

বাঘাই আরও বলেন, আমার মনে হয় না সেখানে আদৌ কোনো নির্বাচন হচ্ছে। বরং কে বেশি মানুষ হত্যা করতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানো এবং মঞ্চস্থ অভিযানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগও করেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছে এবং এরপর আর কোনো নিশ্চিত হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলার হুমকি দিচ্ছে। এমন উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, ইরানের হুমকি দূর করার একমাত্র উপায় হলো দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। রোববার ইসরায়েলি চ্যানেল ১৪-কে তিনি বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে আমি মোসাদ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি।

এর জবাবে বাঘাই বলেন, নেতানিয়াহু ফাঁকা হুমকি দিচ্ছেন। তার এসব কথা মরিয়া হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত তিন দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আজ তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বাঘাই জানান, ওই বৈঠকে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, লেবানন পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠবে। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর সামরিক আগ্রাসন এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের বৈঠক হতে পারে না। এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচির অংশ হবে।

ইত্তেফাক/এবিএস