ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলা নারীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৫

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে আটক নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিকাল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনও ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়।’

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। এ ধরনের বক্তব্য তার বাক্‌স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে এলে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার (৩০)। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই দুটি ভিডিওতে সাথী আক্তারকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা সম্পর্কে ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, এ ধারা মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।

সাথী আক্তার জামিন পাবেন কি না, তা আদালতে পাঠানো পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান আদালত পরিদর্শক। তিনি বলেন, প্রতিবেদন দেখে বিচারক চাইলে তাকে জামিন দিতে পারেন, আবার জামিন নামঞ্জুরও করতে পারেন।

ইত্তেফাক/এসজে