এই মুহূর্তে গণঅধিকার পরিষদ সরে গেলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে বলে বিএনপিকে হুশিয়ারি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ফরিদপুর জেলা সভাপতি ফরহাদ হোসেন। একই সাথে ন্যায্য অধিকার না পেলে বিএনপিকে ফাঁদে ফেলারও হুশিয়ারি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন ফরহাদ হোসেন। দলটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা শাখার উদ্যোগে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা বিএনপির প্রতি নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাঠে ছিল এবং গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তারপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সরকারে বিএনপি জোটসঙ্গী হলেও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
বক্তব্যকালে জেলা গণঅধিকারের সভাপতি ফরহাদ হোসেন বিএনপিকে হুশিয়ারি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের সাথে যে আচরণ করছেন- তাতে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ তার প্রতিপক্ষের সাথে আচরণ করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় একটা ওয়ার্ডের নেতাকর্মীর ভয়ে আপনারা ঘরে থাকতে পারেন নাই, ধান খেতে ঘুমাতে হয়েছে। সে সময় গণআধিকার পরিষদ কথা বলতো, কথা বলার মাধ্যমে বিপ্লব সংঘটিত করে আপনাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। সেই গণঅধিকার পরিষদকে আপনারা সঙ্গে নিয়েছেন কিন্তু তার ন্যায্য অধিকার দেন নাই।’
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিভিন্ন অফিস আদালতে আপনাদের যে অবস্থা দেখি- গণঅধিকার নেতাকর্মীদের আপনারা মূল্যায়ন করতে চান না। আপনারা হয়তো ভাবছেন লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী আছে, হাসিনারও লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী ছিল। কিন্তু তিনি এদেশে থাকতে পারে নাই, পালিয়ে গেছে। অতএব জোট সঙ্গীকে মূল্যায়ন করেন। কারণ, এই মুহূর্তে যদি বিএনপির পাশ থেকে গন অধিকার পরিষদ সরে যায়, তাহলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে।’
ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘জামায়াত-এনসিপিও চাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদকে বিএনপি থেকে দূরে সরাতে। কিন্তু গণ অধিকারের যে নেতা, তিনি পরিপক্ব নেতা, তিনি ওই ফাঁদে পা দিবেন না। কিন্তু আপনারা সারাদেশে আমাদের সাথে যে আচরণ করতেছেন, তাতে মনে হচ্ছে- আমরা নতুন ফাঁদ করে বিএনপিকে সেই ফাঁদে ফেলব। ওই ফাঁদ আমরা পাততে চাই না, আমরা ন্যায্য অধিকারটুকু চাই।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রুবেল, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফিরোজ শেখ, সহ-সভাপতি মনির চৌধুরী, জিয়া খান, আলীমুজ্জামান লাবলু ও আলমগীর শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জাহিদ হাসান, যুব অধিকার পরিশোধের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন বিপুল, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সোহেল খান সহ অনেকে।
এ সময় প্রতিটি উপজেলার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে কেকে কেটে উদযাপন করা হয়।
