কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি মুক্তার ডিএনএ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩৫

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনো মেলেনি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর কোনো নমুনার সঙ্গে তার ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে এ তথ্য জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক রিমন ঘোষ।

শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) এবং ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাদের বাড়ি ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায়।

তবে এই ১০ জনের মধ্যে নিখোঁজ মুক্তা নেই বলে জানিয়েছে সিআইডি। ২৭ বছর বয়সী মুক্তা সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তার স্ত্রী রিসোর্টের একটি কক্ষে আটকা পড়েছিলেন। মুক্তার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর আগে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মুক্তার অবস্থান শনাক্ত করতে তার মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাশে পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শুরুতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

এ ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 
ইত্তেফাক/এসজেএস