ইতালিতে সান মারিনোর বিপক্ষে খেলেছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। ২ গোল করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশি জিতেছিল ২-১ গোলে। তার পর ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে খেলা হয়নি। জাতীয় দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। সাফের ক্যাম্পে আবার ফিরেছেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মন।
সাফের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গতকাল। অনেক দিন পর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনুশীলন। নতুন দিন, নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবার প্রস্তুতি শুরু। ৯ গোলে ইন্দোনেশিয়ার কাছে হারের কলঙ্ক গায়ে মেখেই অনুশীলনে নেমেছেন ফুটবলাররা। তপু বর্মন আত্মবিশ্বাসী ফুটবলার। স্টপারব্যাক পজিশনে তাকে রক্ষণ সামাল দিতে হয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার লড়াই করার কথা জানালেন। যদিও এবারের সাফ ইতিহাসের সবচেয়ে সহজ সাফ হতে পারে। নেপাল নেই, ভারতও কঠিন দল পাঠাচ্ছে না। অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
তারপরও তপু বর্মনদের কাছে এই সাফ কঠিন মিশন বলে মনে করছেন তারা। তপুর কথা হচ্ছে ২৩ বছর সাফ জয়ের মিশন। আবার ঢাকা স্টেডিয়ামে সাফের লড়াই। আগেও হয়েছে। কিন্তু এবার যেন একটু ভিন্ন রকমের সাফ। কারণ ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী খেলবেন। ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ সাফে। হামজা খেলতে পারবেন না। ক্লাব ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশে আসবেন। হামজা না থাকলেও সেটি নিয়ে বসে থাকতে রাজি না। হামজা ছাড়াও লড়াই করার মানসিকতা রাখার কথা জানিয়েছেন তপু বর্মন।
তপুর পরিষ্কার কথা, হামজা ছাড়াও ম্যাচ জেতার মানসিকতা আমাদের আছে। হামজাকে ছাড়া খেলার অবস্থা আমাদের আছে। হামজাকে অবশ্যই মিস করব। তাই বলে হামজা না থাকলে গুটিয়ে যাবো-এটা ভাবাও ঠিক না। এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।'
ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় দেশের ফুটবলের ক্ষতি হয়েছে। তপু ফেরাতে হয়ত রক্ষণ ভাগের শক্তি বেড়েছে। শুধু গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডারে নয়, পুরো দলকেই রক্ষণে দায়িত্ব নিতে হবে। বিশ্ব ফুটবলে টিম ডিফেন্ডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি দলগতভাবে রক্ষণ সামলাতে পারি, তাহলে এত গোল হজম করব না। পেছন থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে রক্ষণভাগকে শক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে আমার ভূমিকা থাকবে।'
পুরো দলের সবাই একটা শক্তিতে পরিণত হবে-বিশ্বাস তপু বর্মনের। জাতীয় দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অনেক সমালোচনা হয়। নাইট ক্লাবে যাওয়া নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। জাতীয় দলে যারা খেলবেন তারা শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবেন এটাই তপু বর্মনের চাওয়া।
আক্রমণভাগে বাংলাদেশ দলের দুর্বলতা ৯ নম্বর পজিশন। এবার রোনান সুলিভানের সঙ্গে প্রবাসী ফুটবলার মাহি খান রয়েছেন দলে। তাদের ওপর কোচ থমাস ঢুলির আত্মবিশ্বাস, সুযোগ দিয়েছেন জাতীয় দলে। তারাও দেশের জন্য কিছু করতে চান, প্রমাণ করতে চান। কঠিন চ্যালেঞ্জ এটি, সংকট দূর করতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে মাহির খান জানিয়েছেন।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন মাহি। আর এতে খুবই গর্ব অনুভব করছেন। 'আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় আমি আমার সেরাটা দেওয়ার জন্য লড়াই করব। আমার আত্মবিশ্বাস আছে। এখানে ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাআল্লাহ আমি গোল করতে পারব। কোচ আমার কাছে কী চাইছেন সেটা আমি জানি। আমাকে ভালো ভাবে বলা হয়েছে। সেটা মাঠে দেখানোর সময় হলেই দেখবেন। আশা করি, গোলও করতে পারব।'
