১৭০ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উত্তাল বঙ্গোপসাগর

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৪২

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও ঘনীভূত হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ বেড়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ ও উত্তাল হয়ে উঠেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ একই এলাকায় পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দরসমূহ এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে যেকোনো সময় তীব্র দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন