রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও দোকান বসানো যাবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক দখলমুক্ত রাখা হবে। মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।
উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাত দখলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন, হকারদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ করা জায়গায় নতুন করে দোকান বসানো হচ্ছে। তাই এখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তা বা ফুটপাত দখল করলে মালামাল জব্দ করা হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিএসসিসি। এ সময় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানে পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংস্থাটির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী ও ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেন।
অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম।
পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
