রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রবাহী বাসের ধাক্কায় নিহতে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। তাছাড়া কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বড়দরগা হাইওয়ে থানার ওসি মোয়াজ্জেম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ মাজার মসজিদের সামনে এই দুর্ঘটনা হয়।
নিহতরা হলেন- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মোজাফফর রহমান (৩৫) ও গোলাপী বেগম (৪৮) এবং উলিপুর উপজেলার বাসিন্দা বাসের সহকারী আপেল মাহমুদ (২৫)। নিহত আরও একজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বড় দরগা হাইওয়ে পুলিশের এস আই মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী খান এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩১৯২৫) কোচ ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্প ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট ১৩৬৬২৮) পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করি। ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া প্রায় ১৮ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় ১১ জনকে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রংপুর মেডিকেলের হাসপাতালের সরদার রুমের সরদার আব্দুল জলিল জানান, মিঠাপুকুরের বৈরাগিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। তাদের মরদেহ ওয়ার্ড থেকে সরদার রুমে দেয়া হয়েছে। সেগুলো মরচুয়ারীতে রাখা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. গোপাল চন্দ্র বর্মন জানান, দুর্ঘটনায় ১০ জনেরও বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকেরই মাথাসহ পুরো শরীরে জখম। শিশু ও নারী রয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে, তারা হলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের দুর্গাচরণ এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নজরুল (৩৬), কুঠিপাড়া গ্রামের দুখু মিয়ার স্ত্রীর লিপি বেগম (৫০), ফুলবাড়ি উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৭) ও আয়েশা খাতুন (৭), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী দুলালী বেগম (৪৪), রংপুরের পীরগাছার পূর্বহাগুলিয়া গ্রামের মহসিন আলীর স্ত্রী বুলবুলি বেগম শাহীনা (৪০)।
এছাড়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন লালমনিরহাটের পূর্ব আমবাড়ি গ্রামের মৃত ইসাহাক আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৩২), কুড়িগ্রামের উলিপুরের মহাদেব এলাকার রফিকুল ইসলামের পুত্র রাকিবুল ইসলাম আপেল (২২)। নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন লালমনিরহোটের বড় বাড়ি এলাকার ফারুক (৩০)।
স্থানীয়দের অভিযোগ ৬ লেনের ওই সড়কটিতে যত্রতত্র ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে রাখায় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটছে কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে নির্বিকার।
বড় দরগা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আমরা সীমিত জনবল দিয়ে চেষ্টা করি যেন নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে কেউ পার্কিং করে না রাখে। অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়াও পার্কিং হয়। সেক্ষেত্রে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকেই দেয় না।

রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩