রাজস্ব ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি, ৭ কোটি টাকা সংগ্রহে আবেদন লিও আইসিটি ক্যাবলসের

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৫

পুঁজিবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে নতুন করে আবেদন জমা দিয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসি। বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাপ্ত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটির রাজস্ব, নিট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য। ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিদ্যমান সব শেয়ারহোল্ডারকে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন কার্যক্রম, আর্থিক অগ্রগতি এবং শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ প্রদানের এই চিত্র নিয়ে পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসি।

রাজস্ব ৪১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, মুনাফায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসির রাজস্ব হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে রাজস্ব ছিল প্রায় ৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা শতকরা হিসাবে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা প্রায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি মুনাফাতেও তুলনামূলক বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের অর্থবছরের ১ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি ১৪ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫২ পয়সায়।

বিদ্যমান সব শেয়ারহোল্ডারকে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ
জানা গেছে, ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরে বিদ্যমান সব শেয়ারহোল্ডারকে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসি। ব্যবসার আয় ও মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ প্রদান প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ অর্থবছরের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশ প্রদানের এই তথ্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ মূল্যায়নে প্রাসঙ্গিক বিবেচ্য বিষয়।

পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা
নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং শেয়ারহোল্ডারদের মোট মূলধন প্রায় ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বিপরীতে মোট দায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।

বিদ্যমান এই মূলধন ও উৎপাদন অবকাঠামোর ভিত্তিতে এসএমই প্ল্যাটফর্ম থেকে নতুন করে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবিত অর্থ মূলত উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের জোগান বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।

ফাইবার অপটিক কেবল ও লিথিয়াম ব্যাটারিতে ব্যবসা
গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে অবস্থিত লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসি ফাইবার অপটিক কেবল, লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক, অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক ইউনিট (ওএনইউ) ও রাউটার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ‘লিও ফাইবার’ ও ‘এইচকিউ লিথিয়াম ব্যাটারি’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে সংযোগ, নেটওয়ার্কিং ও জ্বালানি সংরক্ষণ খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয় ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। উৎপাদনে রয়েছে ডিজিটাল টেস্টিং ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ইন্টারনেট অবকাঠামোর জন্য ফাইবার অপটিক কেবল ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় ব্যবহারের উপযোগী ব্যাটারি প্যাকের ব্যবসায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংগৃহীত অর্থ যাবে উৎপাদনের চলতি মূলধনে
জানা গেছে, প্রস্তাবিত কিউআইওর অর্থ ফাইবার অপটিক কেবল ও লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অর্থের একটি অংশ ব্যয় হবে ইস্যুসংক্রান্ত খরচ নির্বাহে। এ উদ্যোগে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠাটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল নিয়ে নতুন করে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে লিও আইসিটি ক্যাবলস পিএলসি।

রাজস্ব ও মুনাফার প্রবৃদ্ধি, শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান এবং একাধিক প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ মূল্যায়নের উল্লেখযোগ্য দিক। নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত অফার উন্মুক্ত হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস