জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বভ্রমণে থাকা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই ভ্রমণ থেমে যায়। ইতোমধ্যে যাত্রীদের কম্বোডিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস।
প্রতিষ্ঠানটির বরাতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সিএনএন জানায়, জ্বালানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কম্বোডিয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে অবস্থানের সময় বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে তাতেও লোকসান ঠেকানো যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের কারণে ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে জাহাজটির প্রতিটি কেবিনের বিপরীতে মাসিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় আগে যাত্রা শুরু করেছিল ৬৪০ ফুট দীর্ঘ ‘ভিলা ভি ওডিসি’। কয়েক মাস বিলম্বের পর যাত্রা শুরু করা জাহাজটির পরিকল্পনা ছিল বিশ্বের ৪০০ টির বেশি গন্তব্য ঘুরে বেড়ানো। এতে পাঁচ বছরের আবাসনের জন্য টিকিটের মূল্য শুরু হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। স্থায়ী কেবিনের দাম ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। এর বাইরে কেবিনের ধরন অনুযায়ী মাসে ৩ হাজার ২৯৯ থেকে ৯ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হয়।
জাহাজটিতে বসবাসকারী হলি হেনেসি জানান, যাত্রীদের জাহাজ ছাড়ার এক দিনেরও কম সময় আগে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। গত মে মাসে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি ফিও চাওয়া হয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার কমানোয় জাহাজে থাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠছিল বলেও জানান তিনি।
তবে ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতাকে ‘অমূল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন হেনেসি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা শ্যারন লেন জাহাজটির একটি কেবিন কিনতে নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলেন। তার কাছে এটি কেবল ভ্রমণের মাধ্যম নয়, ছিল নিজের বাড়ি।
আগামী দুই মাসে আর্থিক পুনর্গঠন ও নতুন মূলধন সংগ্রহের চেষ্টা চালাবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শেষ পর্যন্ত জাহাজটির কার্যক্রম আবার শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
