পাঁচ নাবালিকাকে ধর্ষণ, ভারতে সংবাদপত্রের মালিকের ১০ দফা যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫০

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পাঁচ নাবালিকাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলায় পেয়ার মিয়াঁ নামে এক সংবাদপত্রের মালিককে ১০ দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৭৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। একই মামলায় তার চার সহযোগীর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কুমুদিনী সিং এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পেয়ার মিয়াঁর সহযোগী রাবিয়া বিবিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য মামলায় তার সহযোগী ও ব্যবস্থাপক ওবায়েসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক সহযোগী সুইটি বিশ্বকর্মাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ভুক্তভোগীদের গর্ভপাত করাতে সহায়তার অভিযোগে চিকিৎসক হেমন্ত মিত্তলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেয়ার মিয়াঁর আটটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তাকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে থাকতে হবে। বাকি দুটি দণ্ডও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এর আগে নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের একই ধরনের ঘটনায় আরও চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে অসহায় পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েদের লক্ষ্য করতেন পেয়ার মিয়াঁ। গৃহকর্মীর কাজ ও মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কাছে টানা হতো। তাঁর সহযোগী রাবিয়া বিবি মেয়েদের তার কাছে নিয়ে যেতেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে তাঁদের যৌন নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পি এন সিং রাজপুতের ভাষ্য, ভুক্তভোগীদের পরিবারের আস্থা অর্জনের জন্য পেয়ার মিয়াঁকে ‘আব্বু’ বা বাবা বলে ডাকতে বলতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে যেতেন এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতেন।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেওয়া

২০২০ সালের ১১ জুলাই ভোপালের রাতিবাদ এলাকায় কয়েকজন মেয়েকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কাউন্সেলিংয়ের সময় তারা জানায়, জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা বলে তাদের দুই দিনের জন্য একটি ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাদের মদ পান করানোর পর যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা।

এ ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। মামলা দায়েরের নয় দিন পর শ্রীনগর থেকে পেয়ার মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌন অপরাধের মামলার বাইরেও পেয়ার মিয়াঁ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভোপালের আনসাল অ্যাপার্টমেন্টে মুঠোফোনের টাওয়ার স্থাপন করে পাওয়া ভাড়ার অর্থ নিজেদের হিসাবে সরিয়ে নিতে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি ভুয়া সমিতি গঠনের অভিযোগ ওঠে।

সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পেয়ার মিয়াঁ। পরে স্থানীয় ভাষার একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক হন তিনি। ভোপালের বুঢ়ওয়ারা এলাকার হাতিখানা অঞ্চলে তাকে সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 
ইত্তেফাক/এবিএস