জাপানের ‘ওসোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ স্কুলে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১৯

বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জাপানের ‘ওসোজি’ মডেল অনুসরণ করছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এ উদ্দেশ্যে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২১টি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিদ্যালয় পরিষ্কার করা, প্রতি সপ্তাহে ডেঙ্গুর ঝুঁকি যাচাই, বর্জ্য আলাদা করে ফেলা এবং বাড়িতেও পরিচ্ছন্নতার চর্চা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার অভ্যাস গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। বিদ্যালয় থেকে পরিবার এবং পরিবারের মাধ্যমে সমাজে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে এ উদ্যোগে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখার বিষয় নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।’

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের নিয়মিত সময়সূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষ, করিডর ও পাঠাগারের মতো নিরাপদ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষকরা পুরো কার্যক্রম তদারকি করবেন। তবে শৌচাগার, নোংরা নালা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিষ্কারের কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, জাপানের ওসোজি মডেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর পদ্ধতি। বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা এবং সেসব সমস্যা সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি চেকলিস্টে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ‘আমার বাসা, আমার দায়িত্ব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা চেকলিস্ট দেওয়া হবে। এতে ঘর গুছিয়ে রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতি রোববার শিক্ষকেরা এসব চেকলিস্ট মূল্যায়ন করবেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব, থাকছে পুরস্কার
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়গুলোতে পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। ডাস্টবিন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির বিষয়েও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেরা বিদ্যালয়, শ্রেণি ও শিক্ষার্থীদের সনদ, বই, শিক্ষা উপকরণ কিংবা গাছের চারা দিয়ে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লিন স্কুল চ্যালেঞ্জ’।

ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাপানের ওসোজি মডেল অনুসরণ করে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের আগে প্রায় তিন মাস গবেষণা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুলাই রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

ইত্তেফাক/এসজেএস