ভারত খুব শক্তিশালী দেশ, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা দেখলেই বুঝতে পারবেন: ভারতীয় মন্ত্রী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫৮

চীনের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের এক মন্ত্রী। বালো রাজা নামের ওই মন্ত্রী বলেছেন, ভারত ‘খুব শক্তিশালী’ দেশ এবং দেশের গোয়েন্দা সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বলিউডের গোয়েন্দা-থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী বলছে, চীনা সেনাদের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বক্তব্যের জবাবে অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী বালো রাজা এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার ইটানগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নগরবিষয়ক, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী বালো রাজা বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কেন এমন বক্তব্য দেবেন, যাতে ভারতকে দুর্বল বলে মনে হতে পারে?

তিনি বলেন, ‘আপনি যখন মহাপরিচালক, তখন এ ধরনের বক্তব্য দেবেন কেন? নিজেকে দুর্বল ভাবছেন কেন? ভারত খুব শক্তিশালী। আপনারা নিশ্চয়ই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেছেন। সিনেমাটি দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা কতটা বেড়েছে।’

অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে বলে আইটিবিপি প্রধান কাপুরের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বালো রাজা এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে এক অনুষ্ঠানে আইটিবিপি সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুর। সেখানে ভারত-চীন সীমান্তে সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর নতুন গঠিত ‘শৌর্য’ কমান্ডো দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন বলে খবরে বলা হয়।

এ ছাড়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ড্রোন যুদ্ধসহ পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। শত্রুজিৎ সিং কাপুর বলেন, চীনকে মোকাবিলায় প্রচলিত যুদ্ধকৌশল আর যথেষ্ট নয়। তিনি চীনকে ভারতের ‘সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

শত্রুজিৎ সিং কাপুরের সেই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সেখানে সংঘাতের কারণ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন বিরোধী নেতারা।

এদিকে উদীয়মান যুদ্ধপ্রযুক্তি, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইটিবিপি নিজেদের আধুনিকায়নের কাজ জোরদার করেছে।

এর আগে অরুণাচল প্রদেশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকার বিষয়ে কাপুরের কথিত বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত শুক্রবারের এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় জানায়, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলপদ্ধতি থেকে সরে এলে ভারত-চীন সীমান্তের পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিস্তারিত বিষয়ে আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেব। আমরা আগেও জানিয়েছি, চীনা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত টহলপদ্ধতি থেকে সরে এলে ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়। অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ভুল-বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে দুই পক্ষ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য উপযুক্ত এলাকাগুলোতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ইত্তেফাক/পিএস