ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামানত হারালেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ ৩ জন

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী। এরা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগও না পাওয়ায় তাদের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকার ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩০টি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, জামানত রক্ষায় একজন প্রার্থীকে অন্তত ৪১ হাজার ৬৬৭টি ভোট পেতে হতো।

জামানত হারানো তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের শিট অনুযায়ী, আসনটিতে সর্বমোট ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫টি। সে হিসাবে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ প্রায় ৪১ হাজার ৭৯১। কিন্তু জামানত হারানো তিন প্রার্থীর কেউই এই সংখ্যক ভোট পাননি।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইসির জারি করা পরিপত্রেও এ শর্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। সে হিসাবে বেসরকারি ফলাফলে জামানত হারানো তিন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এবার মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন চারজন।

এদিকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।

পাশাপাশি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রার্থী, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।

ইত্তেফাক/এনটিএম