এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে তালগোল, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৩

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কখনো ২৯ অক্টোবর, কখনো ৩১ অক্টোবর তারিখের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বদলেছে ফল ঘোষণার স্থানও। কর্তৃপক্ষের এমন সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

নিয়ম অনুযায়ী, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করে। তবে এবার সেই প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটেছে।

গত ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ফল কখন ও কীভাবে প্রকাশ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে ফল জানতে পারবেন, তা ২৬ অক্টোবর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। তবে নির্ধারিত দিনে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

পরে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে থাকায় ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ফল প্রকাশের ঘোষণা বা এ-সংক্রান্ত অন্য বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও বিষয়টিকে স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন শিক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এরপর ২৭ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশ করা হবে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বোর্ড। এতে ফল ঘোষণার স্থান পরিবর্তন করে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। পরীক্ষার সময়ও শিক্ষার্থীরা হাঁটু-পানি ভেঙে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এটাও ছিল সিদ্ধান্তহীনতা। চাইলেই এদিন পরীক্ষা স্থগিত করা যেত। এসব সিদ্ধান্তহীনতার কারণে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ