ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: বৈরী আবহাওয়ার কবলে দুবলারচরের শুঁটকি জেলেরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪০

মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন সুন্দরবনের দুবলারচরের শুঁটকি জেলেরা। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

এ অবস্থায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলারচরে পৌঁছেও মাছ ধরতে সাগরে নামতে পারেননি জেলেরা। নৌকা ও ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে মুঠোফোনে এসব তথ্য জানান দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন,

এবারের শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের মুখে পড়েছেন জেলেরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রওনা হয়ে শুক্রবার সকালে জেলেদের বহর দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচরে পৌঁছায়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা চরে নামতে পারেননি। ফলে থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর ও মাছ সংরক্ষণের গোলা তৈরির কাজও শুরু করা সম্ভব হয়নি।

কামাল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাগরে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সেই সঙ্গে আছড়ে পড়ছে প্রবল ঢেউ। এ কারণে জেলেরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দুবলা বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, শুক্রবার থেকে দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিনেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। এরই মধ্যে সাত হাজারের বেশি জেলে দুবলারচরে পৌঁছেছেন।

তিনি আরও জানান, দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচর নিয়ে দুবলারচরের শুঁটকিপল্লি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি জেলে এসব চরে অবস্থান করেন। তাঁরা সাগরে মাছ ধরে তা শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন।

পরে জেলে ও মহাজনেরা এসব শুঁটকি বাজারজাত করার জন্য খুলনা, সৈয়দপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান বলে জানান বন বিভাগের এই কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/এপি