ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: রিমান্ড শেষে এমপির ছেলে কারাগারে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৩

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের এমপি আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আসামিকে বড়াইগ্রাম আমলী আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তৌহিদুল ইসলাম সুমন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রিমান্ড শেষ হলে আসামিকে আদালতে হাজির করে আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করলেও বিচারক শুনানী না করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য কোনো তারিখ ধার্য করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এমপির ছেলে রিমান্ডে থাকাকালেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামে আরও দুজনকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিবিড়ভাবে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করেন শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম।

শাকিলের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই দিন রাত ১০টার দিকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। একইসঙ্গে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার শাকিলের জানাজা শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের শপিংমলে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।

এসব ঘটনায় জনরোষে পড়েন এমপি আব্দুল আজিজ। বুধবার সকাল থেকে এমপি আব্দুল আজিজের অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওতে তাকে অশ্লীল আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা বিএনপি।

এমপি আবদুল আজিজ বলেন, তার এবং তার সন্তানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সবই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত শাকিলের গুরুদাসপুর পৌরসভার খোয়ারপাড়া খামারনাচকৈড়ের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। অপরাধী যেই হোক সঠিক বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন তারা।

ইত্তেফাক/এপি