বিষাক্ত ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া সেই নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০২

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের টিনাসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়া পাইক নামে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তবে দুটি ইনজেকশন পুশ করার পরও মৃত্যু না হওয়ায় তাকে দ্রুত একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি অলৌকিকভাবে জেগে ওঠেন এবং এখন সুস্থ হওয়ার পথে আছে।

তবে এখন তার শরীরে অস্বাভাবিক যন্ত্রণা হয়, দিন কাটাতে হয় ভয়াবহতার মধ্যে। সেই অভিজ্ঞতাই শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ক্রিস্টিয়া পাইক।

প্রথমেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চেষ্টার দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এক মাস আগে ৩০ সেপ্টেম্বর, আমি রিভারভেন্ডের পুরুষ কারাগারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেম্বারে প্রবেশ করি মরার প্রস্তুতি নিয়ে। আমি মনে মনে সান্তনা খুঁজে নিয়েছিলাম। যারা আমার পাশে ছিলেন, আমাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তাদের আমি বলেছিলাম আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা আমার মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করার জন্য সেই চেম্বারে ছিলেন তাদের আমি বলেছিলাম তাদের প্রতি আমি মমতা রেখে যাচ্ছি।’

এরপর বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পর আর কিছু মনে ছিল না ক্রিস্টিয়া পাইকের। অর্থাৎ ইনজেকশন পুশ করার পর তিনি তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বেডে জেগে ওঠেন।

সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কয়েকদিন পর আমি হাসপাতালের বেডে জেগে ওঠি বিভ্রান্তি ও ব্যথা নিয়ে। ওই সময় আমি বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে, আমি বিভ্রান্ত ছিলাম। এরপর থেকে একটা মুহূর্তও নেই যেখানে আমার শারীরিক যন্ত্রণা হচ্ছে না। আমার শরীরে ব্যথা, আমার হাতে ব্যথা, আমার গলায় ব্যথা। আমার কথা বলতে কষ্ট হয়। আর কষ্টটা শুধু শারীরিক নয়, আমি মানসিক ও আত্মার কষ্টেও আছি।’

তিনি বলেন, ‘ওই রাতের পর জীবন নিয়ে আমি আর ভাবিনি। ওইদিনের ব্যর্থ চেষ্টার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমি তাদের সবার জন্য ব্যথিত। আমি যাকে হত্যা করেছিলাম, তার পরিবার যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছে আমি অব্যাহতভাবে তা নিয়ে ভাবি।’

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এমন কথা জানিয়ে ক্রিস্টিয়া পাইক আরও বলেছেন, ‘আমি সুস্থ হয়ে উঠছি এবং আমি জানি আমি শক্তিশালী হচ্ছি। তবে সুস্থ হয়ে ওঠা আর ঠিক থাকা এক নয়।’

এখন কারাগারের হাসপাতালে দিন কাটছে সেটি জানিয়ে এই খুনি বলেছেন, ‘ওই রাতের পর থেকে আমি কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে একাকি অবস্থায় আছি। সবার থেকে দূরে আছি, মানুষের সংস্পর্ষ থেকে দূরে আছি। যা আমার জন্য অনেক কিছু ছিল। এই একাকি থাকা আমার জন্য আরও কষ্টদায়ক। আমি দীর্ঘ ২৮ বছর কারাগারের নির্জন সেলে থেকেছি। এখন ঠিক তাই আবার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার সাথে কী হয়েছে সেটির অর্থ আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। একটা বিষয় আমাকে সাহস ও শক্তি দিচ্ছে সেটি হলো বিশ্বব্যাপী যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি। জানা ও অজানা যারাই আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। অনেক মানুষ আমাকে নিয়ে ভাবেন এটি জানার পর, তারা আমাকে মানুষ হিসেবে ভাবেন এটি জানার পর, আমি যে কতটা কৃতজ্ঞ তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক, নার্স আমার সেবা করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে সর্বোচ্চটা দিয়ে সেবা করেছেন। আমি তাদের সেই দয়া কোনোদিন ভুলব না। এছাড়া আমার আইনজীবী ও যারা আমার জন্য লড়েছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

সবশেষে ক্রিস্টিয়া পাইক বলেছেন, ‘আমি জানি না সেই রাতে আমি কেন বেঁচে গেছি। আমি জানি না সামনে কী হবে। অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে আমার জন্য আশা পাওয়াই কঠিন। এ মুহূর্তে আমি সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছি।’

১৯৯৬ সালে নিজের এক সহপাঠীকে খুন করেন ক্রিস্টিয়া পাইক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তার দণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

সূত্র: সিএনএন

ইত্তেফাক/এমএস