বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ‘পরিচিত ছোট ভাই’ ও শেষ মুহূর্তের সঙ্গী আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসংগতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তাহসিফ কীভাবে নিখোঁজ হলেন এবং বন্ধুকে না পেয়ে দীপ কেন একা ফিরে এলেন—এসব বিষয়ে তিনি বারবার বয়ান বদল করছেন এবং শুরুতে অনেক তথ্য গোপন করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে সেই আতঙ্কে তাহসিফ পানিতে পড়ে যান। তবে ধাওয়াকারীরা সত্যিই পুলিশ সদস্য ছিলেন, নাকি কোনো মাদক কারবারি বা অন্য কোনো দুর্বৃত্ত, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া প্রতিটি তথ্য ও দাবি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলটি মাদক কেনাবেচার পরিচিত স্পট হওয়ায় সেখানে মাদক সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা তাদের নিজস্ব কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরিষ্কার হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফের বাসার গ্যারেজে দীপকে দেখা গিয়েছিল এবং তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে রওনা হয়েছিলেন।
দীপের দাবি অনুযায়ী, মোটরসাইকেল মেরামত ও রেস্তোরাঁেয় খাওয়ার পর তারা সেখানে যান এবং দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে তিনি একাই গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এবং দীপের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় মৃত্যুর নেপথ্য সত্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
