নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধ, নার্সকে পিটিয়ে জখম করলো দুই সহকর্মী

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধের জেরে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে। গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী নার্সের নাম শাহানাজ পারভিন। অভিযুক্ত দুই নার্স হলেন- শিল্পী আক্তার ও তার বোন লিপি আক্তার। তারা দুজনই বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার তৈরি নিয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহানাজ পারভিন ও নার্স শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত বুধবার শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে দুজন মিলে জরুরি বিভাগের পাশে কর্তব্যরত শাহানাজের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

শাহানাজের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আহত শাহানাজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিন বলেন, ‘কাজের সুবাদে কথাকাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে বাসা থেকে লোক ডেকে এনে আমাকে এভাবে মারধর করবেন, তা ভাবতেও পারিনি। আমার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

তবে শাহানাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাদের দাবি, শাহানাজ প্রায়ই তাদের কটূক্তি ও গালাগাল করতেন। ঘটনার দিনও ডিউটির রোস্টার নিয়ে কটাক্ষ করায় তারা ক্ষুব্ধ হন।

ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নার্স শিরিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং হাসপাতালের সুনামের পরিপন্থী।’

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কাজ করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি