পুরোনো বাস রং করে ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৬

রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব রুটে ৭৮০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে ৭৮০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি রুটে শুধু নন-এসি এবং বাকি দুটি রুটে এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করবে। তবে নতুন বাসের পরিবর্তে পুরোনো বাস রং করে ছয়টি কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করা হচ্ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বাস রুট রেশনালাইজেশনের মূল লক্ষ্য গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন হলেও শুরুতেই নতুন বাস নামানো সম্ভব হয়নি। পুরোনো বাসগুলো রং করে কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে যে লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে প্রশ্ন রয়েছে।

রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর যানজট ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও গণমাধ্যম—এই চার পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, নগরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব সারা দেশে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, বিশৃঙ্খলায় অল্প কিছু মানুষ লাভবান হলেও শৃঙ্খলায় উপকৃত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। তাই পরিবহন খাতের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা আর চলতে দেওয়া যায় না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের নির্ধারিত স্টপেজ থেকে বাসে ওঠানামা করতে হবে। এ নিয়ম মেনে চলতে যাত্রীদের সহযোগিতা চান তিনি। একই সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদেরও নতুন নিয়ম অনুসরণের আহ্বান জানান।

নতুন বাস কেনার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা চেয়ে সাইফুল আলম বলেন, তারা ভর্তুকি চান না। সরকারের সহযোগিতায় বাসের ব্যবস্থা করা হলে মালিকেরা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং মালিক সমিতির গ্যারান্টিতে বাস নিতে পারবেন। পুরোনো বাসগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলা হবে।

ছয় রুটে যেসব কোম্পানির বাস চলবে

ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন বাস কোম্পানি। এ পথে দীর্ঘদিন ধরেই কোম্পানিটির বাস চলাচল করছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ রুটে বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে গোলাপি রঙের বাস চালু করা হয়েছিল। তবে তাতে প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা আসেনি।

মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস পরিচালনা করবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা রুটে ৭০টি বাস চালাবে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। এ দুটি কোম্পানির বাসও আগে থেকে ঢাকার সড়কে চলাচল করছে।

এ ছাড়া ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে ১৫০টি বাস পরিচালনা করবে ফোর স্টার বাস লাইন। ঘাটারচর থেকে উত্তরা রুটে ১৯০টি বাস চালাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস।

অন্যদিকে, টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ২০টি এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ছয়টি রুটের কয়েকটিতে বর্তমানে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ভিআইপি, বিকাশ, দিশারী, তানজিল, মেট্রোলিংক, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, রজনীগন্ধ্যা, মালঞ্চ, সময়, মিডলাইন, পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহন।

নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত কোম্পানির বাইরে অন্য কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএসআর