কিশোরগঞ্জে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৯

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বরযাত্রীরা। অটোরিকশাচালক ও তাদের সহযোগীদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কনের পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার কাটখাল বাজারের গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য কাওসার মিয়া কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গ্রামের স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেকে নিয়ে কনের স্বজনরা বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যার পর তাদের বহনকারী অটোরিকশা কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ছরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া কনের এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এর প্রতিবাদ করলে দয়াল ও তার সহযোগী অটোরিকশাচালকরা তাদের ওপর হামলা চালান।

এতে কনের পরিবারের ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হলে কাওসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

কনের স্বজন মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সুপারভাইজার দয়াল মিয়ার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। আহতদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দয়াল মিয়ার স্ত্রী রুপনাহার পাল্টা দাবি করেন, অটোরিকশার হর্ন বাজিয়ে সাইড চাওয়ায় মাইজচরের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। আহত দয়াল মিয়াকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল গাফফার জানান, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পরে রাতে মিঠামইন থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

 
ইত্তেফাক/আরএইচ