তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী রিমান্ডে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:০৭

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন দিশা। ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ নামের একটি খাবারের দোকানেও গিয়েছিলেন।

এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে দিশার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাওয়া এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে তিনি মামলাটি করেন। পরে দীপকে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। রাত বাড়লেও ফিরে না আসায় তার মা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরার কথা জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে নিজের ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। তবে এরপরও তিনি বাসায় ফেরেননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নৌ পুলিশ ফোন করে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানায়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ইত্তেফাক/এসএ