সাজেকে দুই ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ মধ্যে আবারও গোলাগুলি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৪

পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অবরোধ পাল্টা অবরোধ ও উত্তেজনার মধ্যেই সশস্ত্র দুপক্ষের মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গলমারা এলাকায় বিকাল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন সশস্ত্র দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া গোলাগুলির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি‌ডিএফ ওজেএসএস’র পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংগঠন দুটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে রোববার সাজেক সড়কে ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করেছে আন্দোলনকারীরা। অপরদিকে খাগড়াছড়ি সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এদিন কর্মবিরতি পালন করেছে। এছাড়াও এদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির  ব্যানারে দিনব্যাপী সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়ক অবরোধ একদিনের জন্য খুলে না দিয়ে স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ এখনও বন্ধ রয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও  সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন রোববার একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল বা তুলে নিলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা।

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা বাস স্টেশনের লাইনম্যান স্বপন চাকমা জানান, পরিবহন খাতের সবাই মিলে খাগড়াছড়ি থেকে দিঘীনালা এবং দিঘীনালা থেকে মারিশ্যা ও সাজেক সড়কে এই ধর্মঘট ডেকেছেন। একদিনের জন্য সাজেক খুলে না দিয়ে স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতেই মূলত এই পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এছাড়াও খাগড়াছড়ি সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এদিন কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানা গেছে।

সাজেকের স্থানীয়রা জানান, সাজেকে গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একদিনের অবরোধ শিথিল করলেও পরিবহন সেক্টরের ধর্মঘটের কারণে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়াও সাজেক এলাকার অধিকাংশ মানুষ জুমচাষসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু গাড়ি না চলায় উৎপাদিত কলা, পেঁপেসহ নানা কৃষিপণ্য খেতেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বিকেলে সশস্ত্র দু’গ্রুপের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত হতাহতের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার শনিবার দুপুরে সা‌জে‌কের কলাবুনিয়া এলাকায় পিসিজেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে এই গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পর পর দুদিন থেমে থেমে গোলাগুলির খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়।

ইত্তেফাক/এপি