হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতার মা-বাবা ও বোনসহ পরিবারের ৮ জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪১

পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০) তার মা, বাবা, ছোট বোন ও বন্ধুসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) তাদের সাতজনকে আদলতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আর ছাত্রলীগ নেতার ছোটবোনকে সেফহোমে পাঠিয়েছে আদালত।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), তার বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), মা শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), ভাই শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), বোন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬), দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)। 

এদিন দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে ৭ জনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম। অপরদিকে, ছাত্রলীগ নেতার ছোটবোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথাকে (১৬) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেফ হোমে প্রেরণ করেছে নারী ও শিশু আদালত।  

এর আগে শনিবার রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হেফাজত থেকে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

৭ জনকে কারাগারে ও একজনকে সেফহোমে প্রেরণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।

এর আগে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে তিনি সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান।

পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স।

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর রাতে নাশকলার মামলার আসামি হিসেবে আটক করা হয় ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হলে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেসময় প্রিন্সের পরিবার অভিযোগ করেছিল, পুলিশ হেফাজতে প্রিন্সকে নির্যাতন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: টিবিএস রিপোর্ট 

ইত্তেফাক/এনএ