গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্য বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৪০

গঙ্গার পানি যদি বাংলাদেশে না আসে, তাহলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ, করিডর ও ট্রানজিট বন্ধ করতে হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় যুব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি নদীতে পানি না আসে, তাহলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না। যদি পানি না আসে, তাহলে কোনো করিডর হবে না, ট্রানজিট হবে না। যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে, তবে কোনো ভারতীয় চ্যানেল এ দেশে চলবে না। আমরা মওলানা ভাসানীর ইতিহাস স্মরণ করতে চাই। তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ, যদি এরকম কিছু হয়, আমরা আবারও লং মার্চের জন্য প্রস্তুত আছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে ঋণের জন্য। কিন্তু সরকারকে কেউ বিশ্বাসও করছে না, ঋণ দিচ্ছে না। জাপান আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, জাপান বাংলাদেশে ইনভেস্ট করেছে অতীতেও। কিন্তু এই মাতারবাড়ী নিয়ে সরকার জাপানের সঙ্গে কি কি চুক্তি করছে এটা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো ধরনের ধোঁয়াশা না রেখে সংসদে আলোচনা ছাড়া আমরা বাংলাদেশে কোনো জাতীয় চুক্তি পাশ করতে দেব না। এই চুক্তিতে ভারতকে কোনো ধরনের অবৈধ করিডোরের ট্রানজিটের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এটা বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ মতামত চেয়েছেন। সালাউদ্দিন সাহেবের কাছে আমাদের কোনো মতামত দেওয়ার কিছু নাই। উনি কে মতামত চাওয়ার। তারা এখন আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে সেখানে যেতে বলছে, কিন্তু আলোচনা নির্বাচনের আগেই কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে, এখানে নতুন করে আর কোনো আলোচনার কিছু নাই। এখন হচ্ছে বাস্তবায়নের সময় অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে ঠিক এর অন্যথা কোনো কিছু হলে বাংলাদেশের জনগণ সেটা মানবে না, বাংলাদেশের বিরোধী দল সেটা মানবে না, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, শ্রমিকরা সেটা মানবে না। 

শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিরা ন্যায‍্য মজুরির জন্য আন্দোলন করছে। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা বাড়িয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আর বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। আমরা এ বৈষম্য মানি না। অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এতে সভাপতিত্ব করেন যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন যুবশক্তির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।

ইত্তেফাক/এমএস