নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছে তিন তলা বিশিষ্ট ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে বিলাঞ্চলের মানুষের জন্য ২০১৮ সালে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এতে করে বেশির ভাগ বেডই রোগীশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকছে বছরের পর বছর।
ও হাসপাতালে ২৪ চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক। চিকিৎসকসংকটের পাশাপাশি ঘাটতি রয়েছে নার্স, ফার্মাসিস্ট, টেকনিশিয়ান, মেডিক্যাল টেকনোলজি নিরাপত্তাকর্মী। ১৩ কর্মচারীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র এক জন, নার্স রয়েছে ১১ জন, এবং মাত্র তিন জন মেডিকেল টেকনোলজি দিয়ে চলছে পুরো হাসপাতালটি। শুধু কাগজে-কলমে আধুনিক হাসপাতাল থাকলেও বাস্তবে নেই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের যেতে হয় জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের। ফলে কোটি টাকার হাসপাতালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে তিন একর জমির ওপর ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৫০ শয্যার আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ। ২০২১ সালে নির্মাণাধীন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাসপাতালটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। উদ্বোধনের পর বহির্বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হলেও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়নি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০-২৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী। তবে বর্তমানে রোগীদের চাপ বেশি বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
দুই বছর বয়সি শিশুর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা মা রেখা খাতুন বলেন, দুদিন ধরে ছেলের জ্বর-সর্দি না কমায় সকালে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এসে দেখি, রোগীদের অনেক ভিড়। জানি না কখন ডাক্তারের সিরিয়াল পাব, ওষুধ নিয়ে কখন বাড়ি ফিরব। ডাক্তার কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। ডাক্তার থাকলে রোগীদের এত সময় কষ্ট হতো না বলে তিনি ক্ষোভ জানান। হাঁটুব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসা আয়েশা বেগম বলেন, হাঁটু ও মাজাব্যথা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দুপুর হতে চলল, এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। রোগীদের দীর্ঘ সিরিয়াল, একজন ডাক্তার রোগী দেখছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. এ এস এম সায়েম বলেন, রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন হাসপাতালে রোগীদের ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি, উচ্চ রক্তচাপ, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও নরমাল ডেলিভারি, মাতৃকালীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি মায়ের নিরাপদ প্রসবের জন্য স্বাস্থ্যসেবাসহ নিয়মিত এন্টিনেটাল চেকআপ করা হয়। আগের চেয়ে এখন রোগীরা বেশি স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই জনবল বাড়ানো হবে।
