পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের একটি ৮৫০ মিটার সড়ক ২৫ বছরেও সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ইটের সলিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে ৭ থেকে ৮টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ০.৮৫০ কিলোমিটার সড়কটির আইডি নম্বর ৫৭৮৯৫৪১১৪। ২০০১ সালে সড়কটিতে প্রথম ইটের সলিং করা হয়। এরপর ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আর সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির গর্তে পানি ও কাদা জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ইঞ্জিনচালিত যানবাহনও চলাচল করতে পারে না। ফলে কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে স্বজনদের কোলে করে কিংবা খাটিয়ায় করে নিয়ে যেতে হয়।
জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, ‘আমরা চরম অবহেলিত একটি এলাকায় বাস করছি। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় ভ্যানচালক মনির বলেন, ‘উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এই অবস্থা বিশ্বাস করা যায় না। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।’
জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, ‘আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী, চলাফেরা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমাদের এই করুণ অবস্থা দেখে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন রাস্তাটি পাকা করে দেন, যাতে আমরা গাড়িতে করে স্কুলে যেতে পারি।’
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মঈনুল আজম বলেন, ‘রাস্তাটি ইতিপূর্বে যেসব প্রকল্প ছিল, সেগুলোতে ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। নতুন যে প্রকল্পগুলো আসছে, সেগুলোতে ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য রাস্তাটি যুক্ত করে দেওয়া হবে। আশা করছি, অতিসত্বর রাস্তাটির কাজ বাস্তবায়ন হবে।’
