চুয়াডাঙ্গায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খানের ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। যদিও কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি বিলুপ্তির পর প্রতিক্রিয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, অবশেষে বিদায় প্রাণের সংগঠন ছাত্রদল থেকে। প্রায় তিন দশকের পথচলার অবসান ঘটল।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিগগিরই এ দুটি ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে উত্তীর্ণ হন। ছেলের এ সাফল্যের খবর আনন্দের সঙ্গে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মালিতা কমিটি বিলুপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগাযোগ করছিলেন নতুন করে কমিটি দেওয়ার জন্য। কিন্তু এ রকম একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে তা হবে, সেটা কখনো ভাবেননি।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে থাকা একজন নেতার ছেলের এইচএসসি পাসের বিষয়টি সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সংগঠনের নেতৃত্ব ও বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তবে ছেলের সাফল্য নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের হাতে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ছেলে এবার এইচএসসিতে পাস করেছে, সেই আবেগ কি প্রকাশ করতে পারব না? বিগত ১৭ বছর ধরে ছাত্রদলের হাল ধরে রয়েছি।
দীর্ঘ ২৮ বছর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী থেকে নেতা হয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে শাজাহান বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাইলে পরবর্তী সময়ে যুবদলের রাজনীতিতে থাকার ইচ্ছা আছে।
উল্লেখ্য শাজাহান খান ২০০৪ সালের কাউন্সিলে চুয়াডাঙ্গা সদর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন,এর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন- আহবায়ক মনোনিত হন ও ২০১৮ সালের ৬ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনোনিত হন।
