ভারতের মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভলির মোথাগাঁও এলাকায় মদের আসরে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে বন্ধুকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করেছিলেন এক ব্যক্তি। তবে গত ২০ দিন ধরে নিহত বন্ধুর দুঃস্বপ্নে তাড়িত হয়ে অবশেষে অনুশোচনায় ভুগে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর গভীর রাতে বন্ধু বিশাল কদম ও প্রভু কারাকাডে একসঙ্গে মদ্যপান করার সময় তাদের মধ্যে সামান্য বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রভু এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারলে মৃত্যু হয় বিশালের। ঘাবড়ে গিয়ে তার বাড়ির মালিক সন্দেশ মাত্রেকে বিষয়টি জানান প্রভু। পরে দুজনে মিলে বিশালের মরদেহ একটি বস্তায় ভরে রাতের আঁধারে খালের ধারের এক নির্জন স্থানে ফেলে আসেন।
প্রাথমিকভাবে প্রভু ভেবেছিলেন তিনি অপরাধের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় অন্য এক মানসিক যন্ত্রণা। গত ২০ দিন ধরে প্রতি রাতে ঘুমাতে গেলেই বিশালের ভূতুরে রূপ ও দুঃস্বপ্ন তার ঘুম কেড়ে নেয়। অবিরত এই মানসিক চাপে ও অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন প্রভু।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর প্রভু শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু বারবার দুঃস্বপ্ন দেখার কারণে তিনি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
এদিকে মরদেহ গুম ও প্রমাণ লোপাটে প্রভুকে সহায়তার অভিযোগে তার বাড়ির মালিক সন্দেশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই আসামিকে কল্যাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
