একই আদেশে ৩ বার জামিনের আবেদন, আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৭

রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিপরীতে তথ্য গোপন করে তিনবার আবেদন করার অভিযোগে আইনজীবীসহ ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন তিন আইনজীবী, পাঁচ আসামি ও তিনজন মামলার তদবিরকারক। তিন আইনজীবী হলেন, অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।

একই সঙ্গে এই তিন আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিন হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আর পাঁচ আসামি এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন না বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরে এই আইনজীবী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগে একই আসামির ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ফাইল করা যায় না। গত রোববার আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে বিজ্ঞ আদালতের নজরে আসে যে একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশ নিয়ে নিম্ন আদালতে তিনটি পৃথক ফাইল করা হয়েছে এবং তা কার্যতালিকায় বিভিন্ন কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

আদালত সেই তিনটি পৃথক মামলা একত্রে এনে আজ শুনানির জন্য কার্যতালিকায় নিয়েছিলেন। আজ সেই মামলা তিনটি একসঙ্গে শুনানি হয়, যা সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের ১ নম্বর আইটেম ছিল। শুনানি শেষে দেখা যায়, মোট পাঁচজন আসামির জন্য জামিনের আবেদন করা হয়েছিল এবং নিম্ন আদালতের যে নামঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আসা হয়েছে, সেই আদেশটি একই। অথচ তিনজন পৃথক আইনজীবীর মাধ্যমে তিনটি পৃথক ফাইল করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, একটি আদেশে একাধিক আবেদন করা যায় না। আদালত বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন এবং স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছেন। পাঁচজন আসামি, তিনজন আইনজীবী ও তিনজন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে এবং তাদের ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এই আসামিদের পক্ষে যতদিন এই রুল নিষ্পত্তি না হয়, ততদিন কোনো প্রকার আবেদন যেন না করা হয়।

পাশাপাশি যে তিনজন আইনজীবী তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন, তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করার ক্ষেত্রে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএস