এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দিলীপ আগরওয়ালা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৬

এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিলেন ঢাকার একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিন করেন। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন। এসময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ওই ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আসামি দিলীপ আগরওয়ালা ওই ঘটনার অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে জড়িত হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, তাদের পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এমতাবস্থায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ চোরাচালানের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২১ অক্টোবর এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই আদালত। এরপর জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ