খালের ওপর কালভার্ট আছে, নেই দুই পাশের সংযোগ সড়ক

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৩

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ আঁধারমানিক গ্রামের খালের ওপর তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি কোনো কাজে আসছে না স্থানীয় কৃষকদের। কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। ফলে খাল পার হয়ে কৃষিজমিতে যাতায়াত ও ফসল আনা-নেওয়ার জন্য এখনো জমির আইলের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। কালভার্টে ওঠার কোনো বিকল্প পথও নেই।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কালভার্টটি নির্মাণে বরাদ্দ ছিল তিন লাখ টাকা। মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটি করে। তবে প্রকল্পে শুধু কালভার্ট নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি কৃষকদের কতটা কাজে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক জাফর হোসেন বলেন, আঁধারমানিক খালের ওপর কাঠের সাঁকো তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তারা কৃষিজমিতে যাতায়াত করেছেন। পরে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সেটিতে ওঠার কোনো সড়ক রাখা হয়নি। ফলে কৃষিজমিতে যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়নি। সংযোগ সড়ক না থাকায় ফসল বাড়িতে নিয়ে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খালের দুই পাশে চলাচলের সড়ক নির্মাণ করা হলে এলাকার অনেক কৃষক উপকৃত হবেন।

আবদুল মোতালেব নামে আরেক কৃষক বলেন, খালের ওপর নির্মিত কালভার্টটির প্রায় ১০ ফুট নিচে জমির একটি সরু আইল রয়েছে। কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় কালভার্টে উঠতে হলে মই ব্যবহার করতে হবে। এ অবস্থায় কালভার্টটি কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না।

এ বিষয়ে ফেনী জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ বলেন, তিন লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পটি মূলত খাল পার হয়ে কৃষিজমিতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছিল। এটি গাড়ি চলাচলের সড়ক নয়। তাই এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ সাধারণত ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তারা কোনো রাস্তা তৈরি করে না। এ কালভার্টের ক্ষেত্রেও রাস্তা বা সংযোগ সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। স্থানীয়রা চাইলে সরকারের অন্য কোনো দপ্তর থেকে আলাদা বরাদ্দের চেষ্টা করতে পারেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি