ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২২:১৫

আগামী ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে চায় সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইটে কর্মীরা কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ডিসেম্বর মাস, বিজয়ের মাস। এই মাসে কর্মীদের যাত্রা শুরু হোক। প্রথম দুই-তিনটা ফ্লাইট কর্মীরা ফ্রি অফ কস্টে যাত্রা শুরু করুক। এর পাশাপাশি যে ডিমান্ডগুলো আসবে সেটাও শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা কর্মীর ডিমান্ড আনার চেষ্টা করছি। তবে আগেই বলে রাখছি, ফ্রি অফ কস্ট দিয়ে যাত্রা শুরু হবে। কারণ ফ্রি অফ কস্ট হচ্ছে, এখানে কর্মীর একটি টাকাও লাগবে না। নট এ সিঙ্গেল অ্যামাউন্ট। আমি আরও সহজ করে দিয়েছি, আমাদের দেশের সব সার্ভিস চার্জ বাদ দিয়ে দিয়েছি। আমরা চিন্তা করছি অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি দেবো। অনলাইনে তারা সাবমিট করবে, এখানে অনলাইনেই লটারি হবে।’

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানোর খরচ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ কর্মীরা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের চেষ্টা রয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের অধীন সব রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে বৈধভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হবে। একই সময়ে নতুন এমওইউ স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট তৎপরতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কে কার পক্ষে কাজ করছেন, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মালয়েশীয় প্রতিনিধিদল দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ও পরীক্ষার মান যাচাই করছে। মেডিক্যাল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি মেডিক্যাল সেন্টারকে নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটি যত প্রভাবশালীই হোক, অনুমোদন বাতিল করা হবে।

কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র যাচাইয়ের বিষয়েও সতর্ক অবস্থানের কথা জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিদেশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র আনলেই হবে না। সেটি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে জমা দিতে হবে এবং দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ কর্মীর চাহিদাপত্র দিলেও বাস্তবে হয়তো ৫০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই প্রতিটি চাহিদাপত্রের বিপরীতে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে। এতে বিদেশে গিয়ে কর্মীরা যেন চাকরি না পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

ইত্তেফাক/এসজেএস