বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে সংঘটিত সম্ভাব্য অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাগত শরণার্থী এবং গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতীয়দের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে অনিয়ম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করে তাদের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের শূন্য পদ এবং এসব পদে নিয়োগের জন্য এ পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তী বৈঠকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সাজেক ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে কমিটি। পরবর্তী বৈঠকে এ-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের আওতায় কর্মরত পাড়াকর্মীদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কমিয়ে দেওয়া সম্মানী ভাতা পুনর্নির্ধারণ করে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও এর সুষম বণ্টন, খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়ম, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পরিদর্শন করবে সংসদীয় কমিটি।
কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, দীপেন দেওয়ান, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও মাছুম মোস্তফা।
