ভারতের কাছ থেকে আরও ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:০৫

দক্ষিণ চীন সাগরকেন্দ্রিক বিরোধের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের কাছ থেকে আরও ৬০টি ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ফিলিপাইন। প্রস্তাবিত এ চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি ডলার। এ বিষয়ে নয়াদিল্লি ও ম্যানিলার মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ করতে পারে ফিলিপাইন। এতে মোট ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেই দেশটি এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারত ও ফিলিপাইনের মধ্যে ব্রহ্মোস নিয়ে এটি হবে দ্বিতীয় ক্রয়চুক্তি। এর আগে ২০২২ সালে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে তিনটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি কেনার চুক্তি করে ম্যানিলা। প্রতিটি ব্যাটারিতে সাধারণত একাধিক উৎক্ষেপণব্যবস্থা, রাডার ও কমান্ড সেন্টার থাকে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফিলিপাইন নতুন করে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মোস ব্যবস্থা সংগ্রহের আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশটি ভারতকে এখন নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও আন্দোলোং জানিয়েছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্ডিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আরও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

এদিকে বুধবার দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরোও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ব্রহ্মোস ইউনিট সংগ্রহের প্রত্যাশা করছে ম্যানিলা। এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের চাহিদার তালিকাও জমা দিয়েছে দেশটি। ফিলিপাইনের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়টিও তালিকায় রয়েছে।

নয়াদিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক প্রদর্শন করা হচ্ছে

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা
ব্রহ্মোস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রয়েভিয়া যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে। ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর নামের সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মোস শব্দের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চার গুণ দ্রুতগতিতে চলতে সক্ষম। স্থল, নৌ ও আকাশপথ থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা যায়। এর পাল্লা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সংস্করণভেদে ভিন্ন।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের মধ্যে এ অস্ত্রব্যবস্থা সংগ্রহের আগ্রহও আলোচনায় আসে।

এদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির বাজারে নিজেদের অবস্থান সম্প্রসারণে কাজ করছে ভারত। এর অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ব্রহ্মোস সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি ভিয়েতনামের সঙ্গেও এ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চুক্তি করেছে নয়াদিল্লি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস