বগুড়ায় এক কুকুরের আক্রমণে আহত ৫০, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৪

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত অর্ধশত আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ২৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার একাধিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আকস্মিক এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি উগ্র ও হিংস্র কুকুর হঠাৎ করেই উপজেলার বাগড়া কলোনি, কেল্লা, টুনিপাড়া এবং হাপুনিয়া এলাকার সড়ক দিয়ে দ্রুতবেগে দৌড়ে যায়। এ সময় রাস্তার সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়ে জখম করে কুকুরটি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জরুরি চিকিৎসা ও অ্যান্টির‌্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম জানান, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৬ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। তাদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত। 

এদিকে হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৬ জনের কথা বলা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই পাগলা কুকুরটির আক্রমণে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমে ভ্যাকসিন সংকটের আশঙ্কায় এবং বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকার লোকজন হওয়ায় অনেকরই স্বজনরা তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যান। কেউ কেউ স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসি ও ক্লিনিক থেকেও ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে কুকুরের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এলাকায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুর নিধনে বা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ইত্তেফাক/এপি