মালয়েশিয়ায় অর্থ কেলেঙ্কারিতে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে কারাগার থেকে মুক্ত করে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী রাখার অনুমতি দিয়ে আদেশ জারি করেছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার নাজিবের আইনজীবী ফারহান শফি সংবাদমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
রাজকীয় ক্ষমার শর্ত অনুযায়ী তার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (আমনো) নাজিবের পক্ষ থেকে ৫০ মিলিয়ন রিংগিত (প্রায় ১২.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানা পরিশোধ করার পর এই আইনি আদেশ দেওয়া হয়।
নাজিবের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় তিনি নিজে এই বিশাল অর্থ পরিশোধে অক্ষম ছিলেন; ফলে দলটির কর্মীরা গণতহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে এই জরিমানার টাকা জোগাড় করেন। সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে ৭৩ বছর বয়সী নাজিব শুক্রবারই কাজাং কারাগার থেকে নিজ বাসভবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ওয়ান এমডিবি নামক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার তছরুপের মারাত্মক অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
২০২২ সাল থেকে সাজা ভোগ করতে থাকা নাজিবকে গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার সুলতান ইব্রাহিম দ্বিতীয় রাজকীয় ক্ষমার আওতায় সাজার অবশিষ্ট অংশ গৃহবন্দী হিসেবে কাটানোর অনুমতি দেন। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ওপর এমন উদারতা প্রদর্শনের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধী রাজনীতিকরা। এই গৃহবন্দিত্বের ঘটনা মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বহুদলীয় জোট সরকারের ভেতরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজন বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
