কক্সবাজারে মোটরসাইকেলে নিয়ে এসে তাড়া করে ব্যবসায়ীকে গুলি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৩

কক্সবাজারে সিনেমা স্টাইলে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে মাহমুদুল হক নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের আগে সদরের খরুলিয়া রশিদ মেম্বারের গ্যাস পাম্পের সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুহাম্মদ আলী।

গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক (৪৫) কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংকরোড বিসিক এলাকার আশরাফুজ্জামানের ছেলে। কিন্তু পরিবার নিয়ে তিনি শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় বাস করতেন। তিনি স্থানীয়ভাবে জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত ব্যবসায়ে জড়িত।

আহতাবস্থায় হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রামু যাচ্ছিলেন। পথে খরুলিয়ায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ে ৬ ব্যক্তি তার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ফিল্মিস্টাইলে’ ব্যারিকেড দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত ছটকে পড়ার চেষ্টা করেন। এসময় তাকে তাড়া করে একাধিক রাউন্ড গুলি করা হয়। এতে পিঠে, কোমরসহ বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। একটি গুলি শরীরের ভেতরে থেকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে তার। ৫ আগস্টের পর তারা এলাকা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত বিএনপি নেতা লিয়াকতের ভাই জায়েদ, কিতাব আলী ও ওয়াজেদ আলী এবং তাদের সহযোগী নাসেরসহ ৬ জন তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ পেয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরও স্থানীয়রা কৌতুহলবশত সড়কে এসে পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাহমুদুলকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আলোচনায় আসেন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তার ভাই জায়েদ। ওই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে এতে দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপি নেতা লিয়াকত কারাগারে যান।

অন্যদিকে, গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশের দোকানি মোহাম্মদ সাঈদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ২২ লাখ টাকা। রাতে বাড়ি ফেরার কালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটান দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকা সাঈদের চিৎকারে ছুটে এসে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

শুক্রবারের গুলির ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন এক নারী। নিজেকে লিয়াকতের স্ত্রী জেসমিন আকতার দাবি করে তিনি বলেন, লিয়াকত মেম্বার আদালতে গুলিবর্ষণ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

পরে মাহমুদুল হককে গুলির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাহমুদুল হক ও লিয়াকত আলী সম্পর্কে আত্মীয়। পারিবারিক দ্বন্ধের কারণে মাহমুদুল হকেরা দীর্ঘদিন ধরে লিয়াকতকে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মাহমুদুল হক মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে জেসমিন আকতার আরও বলেন, দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা না থাকলেও প্রাইভেট গাড়িতে চলাচল করা মাহমুদুলকে কে বা কারা আক্রমণ করেছে কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জেরে লিয়াকতের ভাইদের নাম উল্লেখ করে তিনি (মাহমুদুল) বিবৃতি দিয়েছেন।

অথচ সে সময় জুমার নামাজে যাওয়ার জন্য ওয়াজেদ ও কিতাব আলী (অভিযুক্তরা) বাসায় অবস্থান করার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ আছে।

প্রশাসন চাইলে তা উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, লিয়াকতের অন্য ভাই জায়েদ আলী আদালতে গুলিবর্ষণের ঘটনার মামলায় আসামি হওয়ার পর থেকে এলাকার বাইরে থাকেন। আদালতে গুলির ঘটনায় লিয়াকত আলীর পক্ষে করা মামলায় মাহমুদুল হকরা চার ভাই ওই মামলায় আসামি। সেই প্রতিশোধ নিতে তাকে গুলির ঘটনায় লিয়াকত পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান জেসমিন আকতার। 

ইত্তেফাক/এপি