নির্বাচনে ভরাডুবির পর রুবিওর পদ ছাড়ার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউস বলছে গুজব

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১:২৮

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগের কথা ভাবছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এই খবরকে গুজব আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। 

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টিকের দুই পারের রাজনৈতিক মহলেই রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ২০২৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং যুক্তরাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-কে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে রুবিও সরে দাঁড়াতে পারেন। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। কানসাস ও টেক্সাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকাতেও ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য পদত্যাগের কথা ভাবছেন। তাদের মধ্যে রুবিও অন্যতম।

ওয়াশিংটনের একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-কে বলেন, ইরান যুদ্ধ থেকে রুবিওর নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এ যুদ্ধের দায় ট্রাম্পের ওপর চাপানোর কৌশলও নিতে পারেন তিনি।

রুবিওর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, প্রশাসন থেকে তার পদত্যাগ করাটা যৌক্তিক হবে। তার ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে রুবিও এগিয়ে আছেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই ভ্যান্সের চেয়ে এগিয়ে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকাও তার নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’

রিপাবলিকান পার্টির আরেকটি সূত্রের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রুবিও প্রশাসন ছাড়বেন। আরও চার-পাঁচজন কর্মকর্তা একই পথে হাঁটতে পারেন। ওই সূত্রের ভাষায়, ‘দেশের মানুষ পুরোপুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছে। অনেকেই মানচিত্রে ইরানের অবস্থান পর্যন্ত বলতে পারেন না, যুদ্ধের বিষয়টিও বুঝতে পারছেন না। জ্বালানির দাম মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।’

ফ্লোরিডা থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের দায়িত্বে আসার পর রুবিওর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। অথচ এক দশক আগে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টার সময় তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ছিল। সে সময় ট্রাম্প তাকে বিদ্রূপ করে ‘লিটল মার্কো’ বলে ডাকতেন।

বর্তমানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে অবস্থান করছেন রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করছেন তিনি। এর আগে প্রয়াত হেনরি কিসিঞ্জারই কেবল একই সময়ে এই দুই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর প্রশাসনে রদবদলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলে প্রকাশিত খবর অস্বীকার করেছেন মার্কো রুবিও।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত প্রশাসনে কাজ করাই তার সব সময়ের পরিকল্পনা ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন শুনি, তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন, তখন সব সময় হাসি। আমি বলি, কোন চাকরিটি?’

এদিকে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর রুবিওর পদত্যাগের খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, বিবিসি

 
ইত্তেফাক/আরএইচ