১৫ আগস্ট ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিশোধ, ৭ নভেম্বর জনগণের সমর্থনে বিপ্লব: জামায়াত আমির

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৬

১৫ আগস্টের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি অবমূল্যায়ন ও অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনায় সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অন্যদিকে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, সেটি ছিল সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত বিপ্লব, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সংহতি জানিয়েছিল।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিশেষ উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭২ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সরকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ইসলামী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জনগণের ম্যান্ডেট হারিয়েছিল। রক্ষীবাহিনীকে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন ধরনের দমনপীড়নের মাধ্যমে দেশে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অপমান, সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে অপহরণের বিচার চাইতে গিয়ে চাকরিচ্যুতিসহ নানা নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এসবের মধ্য থেকেই মূলত ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের মতো অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিশেষে ৭ নভেম্বর সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করলে রাজপথে সাধারণ মানুষ তাকবির ধ্বনিতে তাদের স্বাগত জানায়, যা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ইত্তেফাক/এএম