সবার জন্য ক্রিকেটের স্বাধীনতা চাইলেন আফগান নারীরা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) প্রথম আসর শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, অথচ নিজ দেশেই ক্রিকেট খেলার অধিকার থেকে বঞ্চিত আফগান নারীরা তুলছেন নৈতিকতার প্রশ্ন। 

তাদের প্রশ্ন, যে দেশে নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ, সেই দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে গিয়ে বিদেশি ক্রিকেটাররা কি তাদের অধিকার হরণের বাস্তবতা উপেক্ষা করছেন? তাদের মতে, বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বিশ্বকে এমন বার্তা দিতে পারে যে আফগান নারীদের বঞ্চনার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায়।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কারণে অনেক নারী ক্রিকেটার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এখন তাদের খেলতে হচ্ছে দেশের বাইরে, শরণার্থী দলের পরিচয়ে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক আয়োজন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

আফগানিস্তান শরণার্থী নারী দলের অধিনায়ক নাহিদা সাপান বিবিসির 'স্টাম্পড' পডকাস্টে বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে আফগান মেয়েরা ক্রিকেটসহ বহু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তার মতে, বিদেশি ক্রিকেটাররা এপিএলে অংশ না নিয়ে সংহতির শক্তিশালী বার্তা দিতে পারতেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারতেন। 

আফগান নারী ক্রিকেটার ফিরোজা আমিরিও বিদেশি খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, পুরুষ ক্রিকেটকে সমর্থন করা মানেই নারীদের ক্রিকেট থেকে বাদ দেওয়ার বাস্তবতা মেনে নেওয়া নয়। আফগানিস্তানের ক্রিকেটের অগ্রগতি উদ্যাপনের পাশাপাশি নারীদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ